ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনগুলোকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল, গম ও চিনির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলে পাইকারি আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে অযৌক্তিক মূল্য কারসাজির অভিযোগ উঠছিল। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পণ্য মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না। প্রতিটি পাইকারি আড়ত ও করপোরেট সরবরাহকারীকে তাদের কেনাবেচার রশিদ প্রদর্শন এবং বিক্রয়মূল্যের চার্ট দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মৌলভীবাজার ও শ্যামবাজার ছাড়াও সারা দেশের বড় বড় পাইকারি মোকামে প্রতিদিন একাধিক ভিজিল্যান্স টিম অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে চালের বাজারে কোনো কর্পোরেট ব্র্যান্ড যাতে ইচ্ছামতো প্যাকেটজাতকরণের নামে দাম বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটতে না পারে, সে জন্য মিলগেট থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং শুরু হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার কর্মীদের মতে, কেবল খুচরা দোকানে জরিমানা করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরবরাহ চেইনের মূল ডিলার ও আমদানিকারকদের ইনভয়েস নিরীক্ষা করে অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকার ঘোষিত বিশেষ টাস্কফোর্স মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় স্বস্তিদায়ক থাকবে।






