লন্ডন ও ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত মাইলফলকে পৌঁছানোর পরও যুক্তরাজ্যের সুবিশাল বাণিজ্যিক বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের শতকরা ৯৯ দশমিক ৮ ভাগ পণ্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রবর্তিত ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (DCTS)-এর আওতায় এই বাণিজ্যিক সুবিধা নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকবে বলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য নীতি উইং সূত্রে জানা গেছে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের স্কিমটিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নিয়মকানুন অনেক সহজ করেছে। বিশেষ করে রুলস অব অরিজিন বা পণ্যের মূল উৎপত্তিস্থলের শর্ত শিথিল করায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত চামড়া, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল খাতের পণ্যগুলো বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখেও বাড়তি সুবিধা ধরে রাখতে পারবে। অতীতে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি ধসের যে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদরা প্রকাশ করেছিলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপে তা অনেকাংশেই দূর হলো।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর এক শীর্ষ নেতা বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। ডিসিটিএস ফ্রেমওয়ার্কের পূর্ণ সুবিধা বজায় থাকায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও রিটেইলাররা নির্বিঘ্নে দীর্ঘমেয়াদি অর্ডারের চুক্তি অব্যাহত রাখতে পারছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাজারেও অনুরূপ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার ধরে রাখতে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরো জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের পরিবেশবান্ধব গ্রিন সার্টিফিকেশন ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টিকে থাকা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়।






