ঢাকা ও কুনমিং, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): ভৌগোলিক নৈকট্য ও শক্তিশালী সড়ক-বিমান যোগাযোগের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক হাব দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ইউনান প্রদেশের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লেনদেনের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১৩০ কোটি ইউয়ান (প্রায় ১৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং চীনা দূতাবাসের যৌথ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ইউনান প্রদেশ হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে চীনের যোগাযোগের প্রধান প্রবেশদ্বার। ইউনানের রাজধানী কুনমিংয়ের সাথে ঢাকার নিয়মিত আকাশপথ এবং মিয়ানমার ও কুনমিং করিডোরে বাণিজ্য ট্রানজিটের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে হস্তশিল্প, পাটজাত পণ্য, চামড়া ও হিমায়িত সামুদ্রিক মাছ ইউনানের বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ইউনান থেকে আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল এবং টেক্সটাইল ডাইস বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চীনের মূল ভূখণ্ডের বেইজিং বা সাংহাইয়ের মতো উপকূলীয় শহরের চেয়ে ইউনান ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অনেক কাছাকাছি। ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। এই বাণিজ্যিক করিডোরটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে কুনমিং-ঢাকা সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থলবন্দরভিত্তিক লজিস্টিকস চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে চলছে।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, একক কোনো বাজারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে চীনের বিভিন্ন সমৃদ্ধ প্রদেশের সাথে সরাসরি সাব-রিজিওনাল বাণিজ্য বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজার তৈরি হবে। আগামী বছর কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও সুসংগঠিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।






