ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্রুততম ডেলিভারি বা ‘লিড টাইম’ নিশ্চিত করতে কাঁচামাল হিসেবে সুতা ও কাপড় আমদানির দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদন ও ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতা সম্পূর্ণ নিরসন করেছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ সুপারিশে বন্ড কমিশনারেটের অধীনে আমদানি প্রক্রিয়াকে সহজ ও ডিজিটাল করে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের জরুরি অর্ডারের সুতা ও বিশেষায়িত কাপড় চট্টগ্রাম বন্দর বা বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছানোর পর ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) সংশোধন ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার অজুহাতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ পড়ে থাকত। এর ফলে দৈনিক বিপুল পরিমাণ ডেমারেজ চার্জ দিতে হতো এবং অনেক সময় ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল বা ডিসকাউন্ট দাবি করত। নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, নিবন্ধিত রপ্তানিকারকদের সুতা ও কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রাক-ছাড়পত্র (প্রি-অ্যারাইভাল ক্লিয়ারেন্স) প্রদান করা হবে এবং পোস্ট-ক্লিয়ারেন্স অডিটের মাধ্যমে যেকোনো অনিয়ম নিষ্পত্তি করা হবে।
এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট উইংয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাঁচামাল ছাড় দ্রুত হলে উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। বন্ডেড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কাস্টমসের অটোমেটেড অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম ‘অ্যাসিকাউডা ওয়ার্ল্ড’-এর সাথে বস্ত্র অধিদপ্তরের ডাটাবেজ সরাসরি ইন্টারলিঙ্ক করা হয়েছে। এর ফলে ভুয়া ইনভয়েস ঠেকানোর পাশাপাশি প্রকৃত উদ্যোক্তারা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের চালান খালাস করতে পারবেন।
টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা এই নীতিগত সংস্কারকে যুগান্তকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, বর্তমানে ভিয়েতনাম ও ভারতের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কাঁচামাল খালাসের দ্রুততা সবচেয়ে বড় উপাদান। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আসন্ন শীত মৌসুমের পোশাক রপ্তানিতে বড় গতি আনবে।






