প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টাইফুন চাম্পি’র তীব্র বাতাস ও প্রবল বর্ষণে তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকায় গাছপালা ও বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন ভেঙে পড়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত দ্বীপটির অন্তত ৫৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে এবং সংযোগ পুনরুদ্ধারে জরুরি কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝড়টি বর্তমানে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করে চীন ও জাপানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তাইওয়ানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে টাইফুনের সতর্কতা জারির পর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকা থেকে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তা উ ওয়ান-হুয়া এক ব্রিফিংয়ে জানান, টাইফুনটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়েলান কাউন্টির উপকূলে ঘূর্ণন সৃষ্টি করায় সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে মোট ৬৫ সেন্টিমিটার এবং শনিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় মিয়াওলি কাউন্টিতে প্রায় ২৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মূল আঘাত কেটে গেলেও তাইওয়ান প্রণালিতে প্রবল বাতাস ও উঁচু ঢেউ অব্যাহত রয়েছে।
যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (JTWC) তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানকালে চাম্পি সাময়িকভাবে ‘সুপার টাইফুনে’ পরিণত হয়েছিল এবং তখন এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। শনিবার স্থলভাগের কাছাকাছি এসে এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে নেমে আসে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Niño) পরিস্থিতির প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়গুলোর তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও এএফপি প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/news/437815)।






