শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ দশা, শিক্ষকসংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ প্রধান শহরগুলোতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ইউনিয়ন, পেশাজীবী ও ইয়েলো ভেস্টস আন্দোলনের কর্মীরা রাজপথে নামলে লিঁও, নিস, লিল, মার্সেই, মন্টপেলিয়ে, নঁত ও তুলুজ শহরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু প্যারিসেই তিন হাজারের বেশি মানুষকে তল্লাশি করে ৬৫ জনকে আটক করা হয়। ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারা দেশে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ (প্যারিসে ১ লাখ ১০ হাজার এবং মার্সেইয়ে ১৭ হাজার) মিছিলে অংশ নিলেও শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ মানুষ (প্যারিসে ২ লাখ ৫০ হাজার এবং মার্সেইয়ে ১ লাখ) রাস্তায় নেমেছেন।
ভাঙচুরের আশঙ্কায় প্যারিসের ল্যুভর, অরসে ও পিকাসো জাদুঘরসহ বড় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শিক্ষার্থীদের ২০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’ সংস্কারের আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, আর অরলিয়ঁ শহরে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারি লো পেনের সম্মেলনবিরোধী মিছিলে পুলিশের হিসাবে ১১ হাজার (আয়োজকদের মতে ২৬ হাজার) মানুষ অংশ নেন।
ফ্রান্সের বাইরে গত এক সপ্তাহে ইউরোপের অন্তত ১০টি দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মিলানে গত সপ্তাহের সহিংসতার পর প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার ৫০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক ও অভিভাবকদের জরিমানার নিয়ম অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে স্পেনের মাদ্রিদে সরকারি পেনশন সুরক্ষা ও আবাসন সংকটের দাবিতে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ মিছিল করেছেন, আলবেনিয়ার তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং তুরস্কে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/world/europe/180r5s89rp)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-24






