তুরস্কে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান সরকারি হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের কারাবন্দী করা এবং জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে দেশটির প্রধান দুই শহর ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন এবং সেন্সরশিপ বন্ধ ও আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই তুরস্কে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অনলাইনে মতপ্রকাশের ওপর কড়াকড়ি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, কেবল গত দুই মাসেই ১১ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং একাধিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে অন্তত তিন হাজার এবং রাজধানী আঙ্কারায় আরও অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারী বন্দী সাংবাদিকদের ছবি হাতে রাজপথে সমবেত হন।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদ চ্যানেল ‘হাল্ক টিভি’তে পুলিশি অভিযান চালিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করা হয় এবং সেখানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ‘এলজিবিটি প্রোপাগান্ডা’ চালানোর অভিযোগ তুলে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদ পোর্টাল ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
ইস্তাম্বুলের সমাবেশ শেষে ডেইলি বিরগুন পত্রিকার কলামিস্ট ও প্রবীণ সাংবাদিক জাফের আরাপকিরলি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সরকার ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাজকে নীরব রাখতে সংবাদমাধ্যম দখল ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, কিন্তু এই আন্দোলন সাধারণ নাগরিকদের অবাধ তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষার লড়াই। একইভাবে আঙ্কারায় বন্ধ হয়ে যাওয়া টি২৪-এর সমন্বয়ক গোকসার তাহিনসিওগ্লু বলেন, সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ দ্রুত ফিরে পেতে ঐক্যবদ্ধভাবে কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/world/europe/bdb6jhnbog)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-24






