অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনের কাছে বন্দুকযুদ্ধে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত এবং তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনার পর অঞ্চলটিতে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবার ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে হেবরনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই অভিযানের কথা জানান তিনি। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্ট ও জুডিয়া জংশন এলাকায় দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের সম্মুখ গোলাগুলিতে দুই সেনা এবং ওই দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। ঘটনার পরপরই হেবরন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর অবরোধ ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশি শুরু করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজকে সঙ্গে নিয়ে হেবরন সফরকালে নেতানিয়াহু বলেন, অভিযানের প্রথম ধাপে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া, বাড়িঘরে তল্লাশি এবং সশস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ওই এলাকায় বেশ কিছু ভবন ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এই ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ এবং ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বিৎসেলেম’ (B'Tselem)। বিৎসেলেম এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর এ ধরনের ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র পশ্চিম তীরে আরোপিত অবরোধ ও চলাচলের নিষেধাজ্ঞায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে পরিচালিত অভিযানে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও এএফপি প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, প্রকাশের তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/352919)।






