চীনের দুর্গম তিব্বত মালভূমিতে ৭ মাত্রার প্রবল ভূকম্পনের আঘাতে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৪৬ জন বাসিন্দা জখম হয়েছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া ও সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ঘড়ির কাঁটায় যখন ১০টা ৩৩ মিনিট, তখন এই কম্পন অনুভূত হয়। চিকিৎসাধীন ৪৬ জনের ভেতর ১১ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং দুর্যোগ কবলিত জনপদে ৩৩৯টি আবাসিক স্থাপনা বিধ্বস্ত কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাব অনুসারে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই কম্পনের কেন্দ্র ছিল লাসা নগরী থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এবং নাগচু থেকে ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বাকেন কাউন্টির পার্বত্য এলাকায়। সেখানে মারু টাউনশিপের কর্মকর্তা লাওয়াং দাগপো জানান, তীব্র ঝাঁকুনিতে দাপ্তরিক ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের ৩৪৭ জন সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের তিংরিতে ভূমিকম্পে ১২৬ জন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গানসু অঞ্চলে ১২৭ জন, ২০১৪ সালে ইউনানে ছয় শতাধিক এবং ২০০৮ সালে সিচুয়ানে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের প্রাণহানি বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল।
অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৯১ কিলোমিটার গতির ঝোড়ো বাতাস নিয়ে অগ্রসর হওয়া সুপার টাইফুন ‘চ্যাম্পি’র তাণ্ডবে তাইওয়ানে ১ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৪ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল থেকে ৩২০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে সাগরে অবস্থান করছিল। দ্বীপটির আবহাওয়া দপ্তর সিডব্লিউএ উল্লেখ করেছে যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বলয় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত থাকায় পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে ১ হাজার ৩০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও প্রবল বর্ষণের জেরে তাইওয়ানের স্বাভাবিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি এড়াতে অভ্যন্তরীণ রুটের নির্ধারিত ২৬২টি এবং আন্তর্জাতিক রুটের ৬৬৯টি ফ্লাইটসহ সর্বমোট ৯৩১টি ফ্লাইট স্থগিত করার পাশাপাশি শেয়ার ও আর্থিক বাজারের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলবর্তী জনপদগুলোতে মুঠোফোন বার্তার মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের অধিক বেগে দমকা বাতাসের পূর্বাভাস দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, দুই দিন ধরে প্রভাব বিস্তারের পর টাইফুন চ্যাম্পি উত্তর-পূর্ব উপকূল পেরিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ জাপানের দিকে সরে যাবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/world/asia/jx7y7rwjzv)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-23



