বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশে মাসের পর মাস ধরে চলা বনাঞ্চল ও পিটল্যান্ডের দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শত শত শিক্ষার্থী। মধ্য কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পালাংকারায়ায় গভর্নরের কার্যালয়ের সামনে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানানো হয়, ঘন ধোঁয়ার কারণে পালাংকারায়া শহরের আকাশ অস্বাভাবিক কমলা রঙ ধারণ করেছে এবং দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের নেতা ইউয়ুন সানজায়া প্রাদেশিক সরকারকে তাদের অক্ষমতা স্বীকার করে পরিস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান, যাতে কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে আগুন নেভানো এবং অসুস্থ বয়স্ক ও নবজাতকদের চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ‘ইন্দোনেশিয়া পুসাকা’ পরিবেশন করেন এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মৃদু ধাক্কাধাক্কি হলেও কোনো হতাহত বা গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেনি।
বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নুসান্তারা অ্যাটলাস’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি বন ও ভূমি পুড়ে গেছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বোর্নিও ও সুমাত্রার এই ধোঁয়াশা সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং পূর্ব তিমুরের আকাশেও ছড়িয়ে পড়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জাভা দ্বীপের খরা ও দাবানলকবলিত জেলাগুলোতে বৃষ্টির প্রার্থনায় বিশেষ সমাবেশ করেছে স্কুলশিক্ষার্থীরা। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও এএফপি প্রতিবেদন (ঘটনার তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, প্রকাশের তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/352995)।






