ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) ধারাবাহিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয় প্রবাহে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। রেমিট্যান্সের এই শক্ত প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের শক্ত অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনেই ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ (১.৮৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইউরোপের যুক্তরাজ্য ও ইতালি থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং, এমএফএস অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাস থেকে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সহজ সুবিধা এবং প্রণোদনা সুবিধার সময়োপযোগী বাস্তবায়নের কারণেই বৈধ চ্যানেলে এই রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জানান, ডলারের বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর থাকায় এবং রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত হিডেন ফি না থাকায় হুন্ডি চক্রের আকর্ষণ মারাত্মকভাবে কমেছে। প্রবাস আয় বাড়ার ফলে আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ডলার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার বিক্রি করার চাপ কমে গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডলারের প্রবাহ ইতিবাচক থাকা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সঞ্চয়কে বন্ড ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের উপযোগী আকর্ষণীয় স্কিম আরো জনপ্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।





