ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়ে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা বাংলাদেশি টাকার দর বিগত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি মার্কেট মনিটরিং সেল এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সম্প্রতি কার্ব মার্কেট ও আন্তঃব্যাংক রেটের ব্যবধান প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার দর টানা বৃদ্ধি পেয়ে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে।
মুদ্রাবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় টাকার মানে যে ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন হয়েছিল, তা সম্প্রতি কঠোর মুদ্রানীতি, সুদের হারের বাজারভিত্তিক সমন্বয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি এলসি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ফলে পুরোপুরি বিপরীত ইতিবাচক ধারায় মোড় নিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট পূরণ এবং চলতি অর্থবছরে প্রবাস আয়ে টানা রেকর্ড প্রবৃদ্ধির কারণে বাজারে ডলারের উদ্বৃত্ত সরবরাহ সৃষ্টি হয়েছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানরা জানিয়েছেন, বাজারে ডলার সংকটের আতঙ্ক পুরোপুরি কেটে গেছে। পূর্বে যেখানে অনেক ব্যাংক আমদানি দায় মেটাতে ডলারের জন্য অন্য ব্যাংকের দ্বারস্থ হতো, এখন প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) ইতিবাচক রয়েছে। ফলে আমদানিকারকরা ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্যে এলসি খোলার সুযোগ পাচ্ছেন, যা সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, মুদ্রার এই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে হলে উৎপাদনশীল শিল্প খাতের সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং রেমিট্যান্সের আনুষ্ঠানিক প্রবাহকে স্থায়ী কাঠামোর মধ্যে ধরে রাখা অপরিহার্য। টাকার স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে তহবিল মোতায়েনে উৎসাহিত হবেন।





