ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর (ই-পত্রিকা ডেস্ক): মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এবং সন্দেহজনক বড় অঙ্কের লেনদেন তদারকিতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর কমপ্লায়েন্স নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত এএমএল/সিএফটি (AML/CFT) কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন জমার ক্ষেত্রে স্ব স্ব ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং চিফ অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারের (CAMLCO) যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিএফআইইউর সার্কুলারে বলা হয়েছে, অতীতে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (STR) এবং নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (CTR) প্রেরণে অভ্যন্তরীণ অডিটকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল অধস্তন কর্মকর্তাদের দিয়ে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে সম্পাদন করত। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং চক্র ও হুন্ডি সিন্ডিকেট সহজেই শনাক্তকরণ এড়াতে সক্ষম হতো। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে এমডিকে যৌথ স্বাক্ষর প্রদানের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা ও আইনি দায়দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এমএফএস ওয়ালেটের অপব্যবহার করে অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও চোরাচালানের অর্থ স্থানান্তর রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের স্বয়ংক্রিয় এএমএল সফটওয়্যার অ্যালার্ট উপেক্ষা করবে কিংবা ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট দাখিল করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানা ও পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সংস্কারকে দেশের আর্থিক সুশাসনের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ)-এর কমপ্লায়েন্স রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশি এলসির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এই প্রাতিষ্ঠানিক কঠোরতা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।





