রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ: ছায়াপথের কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বর ঘিরে ভারী ধাতব গ্যাসের মেঘ

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়া এই ধাতব মেঘ সুপারনোভা বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলে দ্য অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল জার্নালে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ই

ইপত্রিকা প্রধান সম্পাদক

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক

প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ পরিমার্জন: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ: ছায়াপথের কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বর ঘিরে ভারী ধাতব গ্যাসের মেঘপ্রতীকী ছবি
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ: ছায়াপথের কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বর ঘিরে ভারী ধাতব গ্যাসের মেঘ — প্রতীকী সম্পাদকীয় চিত্র (মহাকাশ গবেষণা)ছবি: প্রতীকী ছবি
WhatsApp

আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে থাকা অতিকায় কৃষ্ণগহ্বর বা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ভারী ধাতুর এক বিশাল গ্যাসীয় ভান্ডারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লাইভ সায়েন্সের বরাতে জানানো হয়েছে, মহাকাশে স্থাপিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে শনাক্ত করা এই গ্যাসীয় উপাদানগুলোর তথ্য ‘দ্য অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল জার্নাল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের তুলনায় ভারী যেকোনো মৌলকেই ধাতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে কার্বন, অক্সিজেন, লোহা কিংবা সোনার মতো উপাদান রয়েছে। নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রস্থলে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে এসব ভারী মৌল গঠিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে সুপারনোভা বা নক্ষত্র বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে ব্ল্যাকহোলের চারপাশে যে গ্যাসীয় ধাতুর সন্ধান মিলেছে, তার রাসায়নিক গঠন আশপাশের কয়েকটি নক্ষত্রের উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোল ফোর্ড জানিয়েছেন, মিল্কিওয়ের কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বরটি মহাবিশ্বের অন্যান্য সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের তুলনায় অনেক ধীরগতিতে চারপাশের উপাদান নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। কেন এই ধীরগতি দেখা যায়, তা স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য কৃষ্ণগহ্বরটির খাদ্য হিসেবে বিবেচিত গ্যাস ও ধূলিকণা এবং একে প্রদক্ষিণ করা নক্ষত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা জরুরি।

গবেষকদের মতে, কৃষ্ণগহ্বরের সন্নিকটে গ্যাস নিঃসরণের প্রক্রিয়াটি স্থানীয় মেঘের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। কেবল গ্যাসের সাধারণ উপস্থিতি দেখে ব্ল্যাকহোলটির সক্রিয়তার মাত্রা নির্ণয় করা যায় না; বরং সেখানে ধাতুর উপস্থিতি গ্যাস ঠান্ডা হওয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কীভাবে সেই গ্যাস ব্ল্যাকহোলের ভেতরে শোষিত হবে তা নির্ধারণ করে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের এই নতুন আবিষ্কার দূরবর্তী ছায়াপথের ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ধাতুর বিস্তৃতি এবং পৃথিবীতে ভারী মৌল পৌঁছানোর রহস্য উন্মোচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (https://www.prothomalo.com/technology/science/4lbwm0bdth)। ঘটনার তারিখ: 2026-10-24

এই সংবাদটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

একটি বা একাধিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে পারেন

সম্পর্কিত সংবাদ

আরও সংবাদ

১৮৮৯ সালের ২২ জুলাইয়ের ভোরের আকাশ দেখেই কি ‘দ্য স্টারি নাইট’ এঁকেছিলেন ভ্যান গঘ?

দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকদের দাবি, বিখ্যাত চিত্রকর্মটির জ্যোতিষ্কের বিন্যাস ১৮৮৯ সালের ২২ জুলাইয়ের ভোরের আকাশের সঙ্গে মিলে যায়; তবে এ মত মানতে নারাজ ভ্যান গঘ মিউজিয়াম।

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ইপত্রিকা প্রধান সম্পাদক

কৃষিতে স্মার্ট ড্রোন ও সেন্সর প্রযুক্তির সম্প্রসারণ: কীটনাশকের অপচয় রোধে সাশ্রয়ী দেশীয় উদ্ভাবন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় এগ্রি-টেক স্টার্টআপের উদ্ভাবিত ড্রোন মাত্র ১০ মিনিটে ১ একর জমির সুষম স্প্রে সম্পন্ন করছে।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইপত্রিকা প্রধান সম্পাদক

কৃষিতে স্মার্ট সমাধান: ফসলের সুরক্ষায় বারি ও ব্রি বিজ্ঞানীদের আধুনিক স্প্রে ড্রোনের সফল ট্রায়াল

উঁচু ও নিম্নাঞ্চলের জমিতে দ্রুততম সময়ে সুষম বালাইনাশক ও ভিটামিন স্প্রে নিশ্চিতের নতুন উদ্ভাবন।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইপত্রিকা প্রধান সম্পাদক

কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় রূপপুর প্রকল্প: ভিয়েনায় আইএইএ ও রোসাটমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে বিজ্ঞানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের আলোচনা

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইপত্রিকা প্রধান সম্পাদক