প্রতি বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ষণোত্তর আর্দ্র আবহাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নগর ও গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করে। এবারও হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অভিজ্ঞতা বলে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো এককালীন বা মৌসুমি ক্র্যাশ প্রোগ্রামের বিষয় নয়; এটি প্রয়োজন বছরব্যাপী সুপরিকল্পিত ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট।
**সম্পাদকীয় বিবেচ্য ও করণীয়:** - **উৎসমূল ধ্বংস:** প্রতিটি বহুতল ভবন, নির্মাণাধীন প্রজেক্ট ও ছাদবাগানের জমা পানি সপ্তাহে অন্তত একদিন খালি করাকে বাধ্যতামূলক নাগরিক দায়িত্বে রূপান্তর করতে হবে। - **কার্যকর লার্ভিসাইডিং:** শুধুমাত্র ফগিং করে উড়ন্ত মশা তাড়ানোয় লাভ নেই; পানির নিচে লার্ভা ধবংস করতে পরিবেশবান্ধব বিটিআই (Bti) ব্যাকটেরিয়ার মতো আধুনিক সমাধান সর্বত্র প্রয়োগ করতে হবে। - **হটস্পট ম্যাপিং:** হাসপাতালের রোগী ভর্তির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অবিলম্বে সেই নির্দিষ্ট এলাকাকে 'রেড জোন' চিহ্নিত করে নিবিড় নজরদারি চালানো দরকার। - **উপজেলা স্তরে চিকিৎসা বিস্তার:** রাজধানী বা জেলা সদরের ওপর চাপ কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিনামূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন টেস্ট ও পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন মজুদ নিশ্চিত রাখতে হবে।
ডেঙ্গু মুক্ত পরিবেশ গড়তে সরকার ও নাগরিকের যৌথ প্রতিশ্রুতি এখন সময়ের দাবি। আমরা আশা করি, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

