একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উন্মুক্ত জলাশয় ও সুষম প্রাকৃতিক পরিবেশ। অথচ ঢাকা শহরের বুক চিরে বয়ে চলা লেকগুলো বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত বর্জ্য নিক্ষেপ ও অবৈধ পয়ঃসংযোগের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুলশান-বনানী লেকের ১২টি বর্জ্য প্রবেশমুখ বন্ধ করা এবং ভবনগুলোতে এসটিপি স্থাপনের যে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, নির্দেশনার পর কিছুদিন অভিযান চললেও তদারকির অভাবে আবারও পুরোনো অবস্থা ফিরে আসে।
তাই এবারের উদ্যোগ যেন সাময়িক চমকে রূপ না নেয়। প্রতিটি ভবনে এসটিপি কার্যকর রয়েছে কিনা তা ড্রোন ও সেন্সরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করতে হবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে লেকে বর্জ্য ফেলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নগরবাসীর ভবিষ্যৎ সুস্থতার স্বার্থেই লেকগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
