শুধু পরিবারে ভরণপোষণের খরচ পাঠানোর সনাতন ধারা বদলে এখন উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ঝুঁকছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা ও সিলেটের বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে প্রবাসীদের অর্থায়নে গড়ে উঠছে স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং মেশিন সজ্জিত ডেইরি ফার্ম, উন্নত জাতের পোল্ট্রি হ্যাচারি এবং আধুনিক মাৎস্য খামার।
**প্রবাসীদের কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব:** - **স্থায়ী সম্পদ গঠন:** জমি বন্ধক বা জমার পেছনে টাকা ব্যয় না করে সরাসরি আয়বর্ধক খামার গড়ে তুলছেন স্বজনরা। - **স্থানীয় কর্মসংস্থান:** প্রতিটি মাঝারি খামারে ৩ থেকে ৫ জন স্থানীয় যুবকের স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। - **বিশেষ ব্যাংক সুবিধা:** প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহীতা পরিবারকে কম সুদে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। - **প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা:** সিসিটিভি ও স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশ থেকেই খামারের প্রতিদিনের দুধের উৎপাদন ও খাদ্য মজুদ পর্যবেক্ষণ করছেন উদ্যোক্তারা।
মালয়েশিয়া প্রবাসী কামরুল ইসলাম জানান, চার বছর প্রবাসে উপার্জিত সঞ্চয় দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে ২০টি গাভীর আধুনিক ডেইরি ফার্ম করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন স্থানীয় মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের কাছে দুধ বিক্রি করে তার পরিবার আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, রেমিট্যান্সের এই উৎপাদনশীল ব্যবহার গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে।
