আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ‘কপ৩১’ (COP31)-এ বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের ন্যায্য দাবিগুলো একক ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে তুলে ধরতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাকশনএইডসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রণীত ‘কপ৩১-এ বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অবস্থানপত্র’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস ও কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের দায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন ভিটেমাটি হারাচ্ছে এবং নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দরকষাকষির টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করার জন্য তিনি গবেষকদের ধন্যবাদ জানান।
জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমনে সরকারের নিজস্ব পদক্ষেপ তুলে ধরে শামা ওবায়েদ জানান, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও সরকার সার্কুলার ইকোনমি বা চক্রাকার অর্থনীতি, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং নদী-খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, দেশীয় কার্বন মার্কেট গঠন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পচনশীল ও শূন্য-বর্জ্য প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের ‘সোনার আঁশ’ পাটকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করতে আসন্ন কপ৩১ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি বিশেষ ‘পাট প্যাভিলিয়ন’ স্থাপন করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বহুমুখী পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং সবুজ অর্থনীতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব সুসংহত হবে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি (ঘটনার তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, উৎস: https://www.bssnews.net/bangla/news/353125)।


