শীত মানেই তো ঘুড়ে বেড়ানোর সময়

0 91

শীত মানেই তো বেড়ানোর সময়। হিম হিম আমেজে মন চায় অবসর। চুপচাপ বসে বসে অনেকটা সময় কেটে যায়, নড়তে ইচ্ছে করে না, আবার গরম গরম মজার খাবার খেতে ভালো লাগে এই তো শীতকালেই। এইসব কিছুর সাথে যদি জায়গাটা হয় এমন মনোরম যে বসে বসে কাটানো অলস সময়টায় চোখ আর মন ভরে যায় প্রশান্তিতে তাহলে তো কথাই নেই, তাই না?

শীত এলেই যেন খুলে যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণের দ্বার। পিক সিজন বলা হয় অক্টোবর থেকে মার্চের সময়টাকে। জেনে নিন কোথায় কোথায় যেতে পারেন এই সময়-

কক্সবাজার

শীত হলো সমুদ্র উপভোগের সময়। আর আমাদের দেশে সমুদ্র বলতেই প্রথমে মনে আসে কক্সবাজারের কথা। অন্যসময়ও ব্যস্ত থাকে এই সৈকত। তবে শীতই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ঋতুচক্রে সময়টা হিমেল হলেও সমুদ্রে বিরাজ করে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া। সমুদ্র থাকে শান্ত। তাই জলে ডুবে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। এ সময় সমুদ্রে স্পিড বোটে ঘুরে বেড়ানো, প্যারা সেইলিং সবই করা যায় শান্তিমতো। আর কুয়াশা না থাকলে মেঘমুক্ত আকাশে উপভোগ করা যায় অসাধারণ সূর্যাস্ত।

সেন্টমার্টিন

সমুদ্র দেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে আপনি যদি সেন্টমার্টিন না যান। গাঢ় নীল রঙের বিশাল সমুদ্র আর গাঙচিলের মেলা দেখতে সেন্টমার্টিনের বিকল্প নেই। অসাধারণ এই জায়গায় যত বিকেল ঘনিয়ে আসে তত গাঢ় নীল হয় সমুদ্রের রং। সমুদ্র উত্তাল থাকে বলে বছরের অন্যান্য সময় বন্ধ থাকে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল। অক্টোবরে তুলে নেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। তবে আবহাওয়ার অনুকূলতা বিবেচনা করেই জাহাজ ভাসে সমুদ্রে। কেয়ারী সিন্দবাদ, গ্রীনলাইনসহ বিভিন্ন কোম্পানির জাহাজ সেবা দিয়ে  থাকে। তুলনামূলক পর্যটক সমাগম কম বলে সেন্ট মার্টিনের বিচে পাওয়া যায় পূর্ণ শান্তির দেখা।

সেন্টমার্টিনে এখন শুরু হয়েছে রোমাঞ্চকর স্কুবা ডাইভিং। নীল সমুদ্রের গহিনে চলে যেতে পারবেন আপনি। উপভোগ করতে পারবেন সমুদ্রের নীচের জগত। যারা স্কুবা করতে চান না তারা স্নোরকেলিং করতে পারেন। ভাটার সময়টায় হেঁটেই যেতে পারবেন ছেঁড়া দ্বীপ। সারা বিচে বিছানো চিকচিকে সাদা বালি, তার ফাকে ফাকে নানা রঙের শামুক ঝিনু্কে। অন্যান্য বিচের তুলনায় সেন্টমার্টিনের আরেকটি বিশেষ পার্থক্য হলো এর কোরাল। বড় বড় কোরাল থাকায় যে কোনো বিচে গোসলে নেমে যাওয়া ঝুকিপূর্ণ। কোরাল খুব ধারালো হয়। একটু সাবধানে কোরাল কম আছে এমন বিচে নামতে হয়।

বেশিরভাগ পর্যটক সেন্টমার্টিন যান খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। জাহাজ সেন্টমার্টিন পৌঁছে বেলা ১২ টায় আবার টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বেলা ৩টায়। এই ৩ ঘন্টায় সেন্টমার্টিন ঘুরে ফিরে আসেন যারা তারা আসলে কখনো সেন্টমার্টিনকে দেখতেই পান না। এই অপূর্ব দ্বীপের সৌন্দর্য কখনো ৩ ঘন্টায় দেখা সম্ভব নয়। সমুদ্র নীল হতে শুরুই করে ৩ টার পর। আর জেটির কাছে সমুদ্র এক রকম, ঠিক বিপরীত দিকে এর সৌন্দর্য একেবারে আলাদা। তাছাড়া এতদূর এসে ছেঁড়া দ্বীপ না যাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সময় নিয়ে বেড়ালে সারাজীবন মনে রাখার মতো একটি ট্যুর হবে এটি।

কুয়াকাটা

সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায় যেখান থেকে অনন্য সৈকতের নাম কুয়াকাটা। দীর্ঘ এই সৈকত ভ্রমণেও পর্যটক তুলনামূলক কমই আসেন। মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিচগুলো ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এখানে ঘুরে দেখবেন ফাতরার বন, চর গঙ্গামতি, সীমা বৌদ্ধমন্দির, মিশ্রীপাড়া বৌদ্ধমন্দির ইত্যাদি। কুয়াকাটায় সৈকতের আশেপাশের গ্রামগুলো দেখতেও ভালো লাগবে। গ্রামে শীতে ফোটে সূর্যমূখী। ক্ষেতজোড়া সূর্যমুখী মনটাই আনন্দে ভরে তোলে।

সোনাকাটা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশের ২য় বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সোনাকাটা বা সোনারচর। ভোলা জেলা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে, পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে এবং গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোসাগরের দক্ষিণে আমতলীতে এর অবস্থান। হরিণ, মেছোবাঘসহ নানান রকম বণ্য প্রাণী এবং অসংখ্য পাখীর দেখা পেতে জুড়ি নেই এই জায়গার। বন পেড়িয়েই সমুদ্র। বিশাল সমুদ্রে সোনার থালার মতো অস্ত যায় সূর্য, তাই নাম সোনাকাটা বা সোনারচর। লাল কাঁকড়ার দূড়ন্ত খেলা দেখতেও কিন্তু চমৎকার। আর এই সৈকতেও পাচ্ছেন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত উভয়ই দেখার সুযোগ।

লালাখাল

সিলেটের অপূর্ব এক নদীর নাম লালাখাল। ভারতের চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের ঝর্ণা থেকে এই নদীর উৎপত্তি। শীতের সময় চমৎকার নীল বর্ণ ধারণ করে নদীর জল। এই সময় লালাখাল দেখা তাই মিস করা ঠিক নয় একদমই। আর সিলেট মানেই তো মেঘ পাহাড়ের মিতালী। দূরে পাহাড়ের সারি, ভেসে চলা মেঘ আর খুব কাছে নীলাভ সবুজ লালাখালের জল এর মাঝে নৌকায় ভেসে চলা এ যেন স্বর্গীয় এক সময়ের অবতাড়ণা।

সুসং দূর্গাপুরের নীল জলের কেয়ারী লেক

বিরিশিরি নামেই খুব বেশি পরিচিত জায়গাটি। এখানে আছে চমৎকার একটি নীল জলের লাইমস্টোন লেক। লেকের অদ্ভুত রং, লেক ঘেষা বর্ণিল মাটির পাহাড় সবকিছুই অনন্য করেছে জায়গাটিকে। কিন্তু জলের এই রং দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কিন্তু শীতকাল। পথের অবস্থা খুব করুণ হওয়ায় সাধারণত পর্যটক কম যায় এখানে। তবে একবার পৌঁছলে জায়গাটির সৌন্দর্য মনকে ভুলিয়ে দেয় বাকি সবকিছু। এখানে লাইমস্টোন লেক ছাড়াও দেখার আছে সোমেশ্বরী নদী, সুসং রাজার বাড়িসহ আরও অনেক কিছু।

এই প্রতিটি জায়গাতেই পরিবার নিয়ে তো যাওয়া যাবেই, যেতে পারেন বন্ধুরা মিলেও। ক্যাম্পিং করতে পারবেন শান্তিমতো, কোনো বাঁধা নেই।  ক্যাম্পিং করার এটাই তো সময়। আর মন যদি চায় এসব কিছু না, সময় কাটাবেন শুধু নিজের সাথে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। বেরিয়ে পড়ুন, উপভোগ করুন আপনার সময়কে।

মন্তব্য
Loading...