বইয়ের কথা: দেখব বাংলাদেশ গড়ব বাংলাদেশ

0 110

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ১১৭৬ কিলোমিটারের পদযাত্রা ছিল আমার। যদিও মূল পথ ১০৩২ কিলোমিটারের কিছু বেশি। বাংলাবান্ধায় যে মাইলফলক রয়েছে, তাতে লেখা টেকনাফ ৯৯২ কিলোমিটার। তবে ইন্টারনেট থেকে হিসাব করলে ১০২১ কিলোমিটারের মতো হয়। আমার দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণ হলো প্রথমত আমি আশপাশের এলাকাগুলোতে ভ্রমণ করেছি, বিভিন্ন শহরে যাত্রাবিরতিকালে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকালে বিভিন্ন কাজে এদিক-সেদিক যাওয়ার সময়ও কোনো বাহন ব্যবহার করিনি। বইয়ের ভূমিকা থেকে।

ম্যারাথন দৌড় ও হাইকিং সম্পর্কে জানার পর আমার মাথায় আসে যে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত প্রায় ১০০০ কিলোমিটার পথ এটা তো হেঁটে পাড়ি দেওয়া যায়। আমি সাধারণত মাঝেমধ্যে চাইলে ২০-২৫ কিলোমিটার হাঁটতে পারতাম, তো যদি দৈনিক আরেকটু বাড়িয়ে ৩০/৩৫/৪০ কিলোমিটার হাঁটা যায় তো এক মাসেই এ ইচ্ছাটা পূরণ করা যায়।
২০১৬ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি থেকে ২৮ মার্চ সময়ের মধ্যে একটা নিছক হাঁটা ভ্রমণের চিন্তা থেকে বের করে একটি সামাজিক এবং গণমানুষের সম্পৃক্ত কর্মসূচিতে রূপদান করতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। আসলে হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াটা চ্যালেঞ্জ ছিল না। মনে হয়েছে মানুষকে এর সাথে সম্পৃক্ত করাটা একটা চ্যালেঞ্জ হবে এবং কোনো ধরনের বিপদ ছাড়া শেষ করাটাও চ্যালেঞ্জ। আমি কিন্তু খুশি। প্রতিদিন বাজার, শহর, স্কুল-কলেজ মিলিয়ে ৫০ হাজার মানুষের সাথে কথা বলেছি। তাদের সাথে মিশেছি।
সফর মানেই দেশ দেখা, দেশ দেখা মানেই অভিজ্ঞতা। আর একটি দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রায় নানা রকম হাসি-আনন্দের অভিজ্ঞতা থাকবে সেটাই তো স্বাভাবিক। দেশটাকে দেখেছি সে আনন্দ রয়েছে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। প্রস্তুতি ও চলায় নানা শ্রম দিয়েছি। বিশেষ করে পায়ে ফোসকা ফোঁটাসহ নানা রকম কষ্টের অভিজ্ঞতা। আছে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দিনভর কখনো কখনো রাতের ও অংশ নিজ ঘর থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে একটা পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, রয়েছে এমন এক কষ্টকর ও সময়সাধ্য ভ্রমণ শেষ করে সফল হওয়ার নিদারুণ আনন্দ। এসবের কোনো কিছুকেই বাদ দিয়ে এই সফরকে সম্পূর্ণ বিবৃত করা যাবে না।
আসলে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব এখানে চলে না। এখানে কেবল সফলতা আর সার্থকতার প্রশ্নটাই আসে। কারণ কষ্টগুলো শেষ পর্যন্ত এক লাইনে চলে আসে। যেমন, ‘অনেক কষ্ট হয়েছে।’ কিন্তু আনন্দগুলো ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় থেকে যায়, কারণ সেগুলোর স্মৃতি এবং অনুভূতি আলাদা হয়। এটা এ ধরনের একটা সফরের ইতিবাচক দিক। এটা যদি আমরা জীবনের খাপে ফেলতে পারি তাহলে জীবন অনেক অর্থময় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে হয়।
দেশ গড়ার কথা বলেছি, দেশকে ভালোবাসার কথা বলেছি, দেশে ভ্রমণ করে দেশকে দেখার কথা বলেছি, হাঁটার অভ্যাসের কথা বলেছি, যাতে সুস্থ থাকা যায়, হাঁটার জন্য অনুপ্রাণিত করেছি, যাতে তারা সাহস পায়, একটা মানুষ যদি হাজার কিলোমিটার হাঁটতে পারে আমি প্রতিদিন অল্প কয় কিলোমিটার হাঁটতে পারব না কেন? অনেকে আমাকে ফোন করে বলেন তারা এখন আগের চেয়ে বেশি হাঁটেন। আমাকে দেখে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
আমি বলেছি বাল্যবিবাহ রোধ করার কথা, মাদক বন্ধ করার কথা, শিশুদের নির্যাতন না করার কথা, বলেছি শিশুশিক্ষার কথা। রাজনীতিবিদরা কেউ কেউ আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, খুব ভালো কাজ। কারণ যখন বলেন তখন সাধারণ মানুষ রাজনীতির বুলি মনে করে উড়িয়ে দেয়। আমি যখন মানুষের সাথে বসে তাদের সাথে মিশে তাদের সমস্যার কথা শুনে তারপর তাদের এসব কথা বলি তারা খুব ইতিবাচক ভাবে নেয়।

‘‘দেখব বাংলাদেশ গড়ব বাংলাদেশ’ ছিল সফরের স্লোগান। দেশ দেখা প্রোগ্রামের নাম প্রথমে দেশ দেখা এটা ছিল না। এবং স্লোগানও ছিল আরেক রকম। দুজন মানুষের মেধা ও প্রজ্ঞা যুক্ত হওয়ার কারণে তাদের পরামর্শে এমন সুন্দর নাম ও স্লোগান ঠিক হয়েছে। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ট্যুরডটকমডটবিডি ও ইনসেপশন গ্রুপের সিইও লায়ন মোহাম্মদ ইমরান ও সাংবাদিক ইমন নাজমুল। তাদের অনিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এই বইটি প্রকাশে এগিয়ে আসায় আবার আন্তরিক ভালোবাসা নি:সৃত ধন্যবাদ পাপ্য হয়েছে ট্যুর ডট কম ডট বিডি ও লায়ন মোহাম্মদ ইমরান। প্রচ্ছদশিল্পী কাজী সোহরাব পারভেজকে ধন্যবাদ তার সময়নিষ্ট কাজের জন্য। প্রকাশনা জগতের নক্ষত্র শফিক সাইফুলও এই গন্থ প্রকাশনার মাধ্যমে পুরো যাত্রার একজন সহযাত্রী হয়ে গেলেন। পান্ডুলিপিটি দেখে দেয়ার জন্য কালের কণ্ঠের সম্পাদনা সহকারী আবীর নজরুলকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।
প্রিয় পাঠক এই বই আপনাদের ভালো লাগলেই কেবল সকল কাজের স্বার্থকতা। আপনাদের সম্মুখে দীর্ঘদিনের একটি কর্মযজ্ঞ পেশ করতে পেরে যারপরনাই ভালো লাগছে। আপনাদের মতামত, ভুল ত্রুটি শুধরে দেয়ার ইচ্ছার প্রতি রইলো আমার সম্মান। কারণ ভুল ত্রুটির বাইরে আমি নই, নয় ছাপাখানাও।

একনজরে দেখব বাংলাদেশ গড়বো বাংলাদেশ

বইয়ের নাম: দেখব বাংলাদেশ গড়ব বাংলাদেশ

লেখক: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

সম্পাদক: লায়ন মোহাম্মদ ইমরান

প্রকাশক: মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম

স্বত্ব: লেখক

দাম: ২৫০ টাকা

পৃষ্ঠা: ১৯২, ১৬ ফর্মা, ১০০ জিএসএম অফসেট পেপার

বাঁধাই: চার রঙা মলাট, ১৫০ জিএসএম আর্টপেপার ও লেমিনেশান। বোর্ড বাঁধাই।

প্রকাশকাল: বইমেলা ২০১৭

বইয়ের ওজন: ৩৬৬ গ্রাম

মোট শব্দসংখ্যা: ৪৯ হাজার ৫০০

মোট ছবি: ৯৬টি

ছবি শ্রেনী: লেখক উদ্দেশ্য হিসেবে আছেন ১৩টি ছবিতে, লেখক বিধেয় হিসেবে আছেন ১৮ টি ছবিতে, সাধারণ মানুষ ও সম্পৃক্ত লোকজনের ছবি ২১টি। শিশুদের ছবি ১৩টি, জীবনযাত্রা সংক্রান্ত ছবি ১৫টি, পরিবেশ সম্পর্কিত ছবি ১১টি, অনুষ্ঠান এবং কার্যরত ছবি ২৬টি।

 

 

মন্তব্য
Loading...