তিনি আমাকে খুন করতে চেয়েছিলেন

0 78

তিনি আমাকে খুন করতে চেয়েছিলেন
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

তারিখ ২৩ মার্চ সকাল পেরিয়ে বেলা একটু গড়াচ্ছে। সেদিন আমি চকরিয়া থেকে হেঁটে ফাঁসিয়াখালী পার হয়েছি। ঢুলাহাজরা সাফারী পার্কের মাত্র কয়েকশ ফুট রাস্তা বাকী। রাস্তার পাশে কিছু দোকানপাট। এখানে দাড়াতে চাইনি কারণ দুইমিনিট পরই সাফারী পার্কে ঢুকবো। কিন্তু লোকেরা কৌতুহলী হয়ে নানা প্রশ্ন করছে তাই কথা বলার স্বার্থে দাড়ালাম একটু সামনে গিয়ে। দ্জুন মোটর আরোহীও আলাপ করতে চাইলেন বলে। তাদের আলাপ শুনে স্থানীয় একলোক এগিয়ে আসলেন। তিনি মন্তব্য করলেন, আমার মতো লোককে গুলি করে মারা উচিত। কারণ আমি শিক্ষিত হয়েও বোকা হলাম কেন? দেশ দেখতে হলে দেড়মাসে বাসগাড়ি আর ট্রেনে সারা দেশ দেখে শেষ ফেলা যায় আরামসে। আর আমি কিনা বোকার মতো রোদের মধ্যে হেঁটে হেঁটে দেশ দেখছি। তাকে তার সমস্ত ঝাল ঝাড়ার সুযোগ দিলাম। মিনিট পাঁচেক পরে জানতে চাইলাম তার আর কিছু বলার আছে কিনা? তিনি জানালেন তার কথা শেষ। এবার আমি বললাম।

আপনার সাথে দেখা হওয়ার জন্যই আমার হেঁটে হেঁটে দেশ দেখা। হেঁটে দেশ না দেখলে আপনার দেখােই পেতাম না।
তারপর বললাম, আমি হেঁটে দেশ দেখছি বলে আপনার মতো মাটির মানুষদের সাথে কথা বরতে পারছি। মানুষকে কাছ থেকে দেখতে পারছি। মানুষের জীবন যাপন দেখে কথা বার্তা শুনে শিখতে পারছি। হাটবাজার গ্রামগঞ্জে প্রতিটি এলাকার কালচার দেখছি। আপনাদের মতো মানুষরা কি ভাবছে সেটা জানতে পারছি। আমি রাস্তায় বেরিয়েছি বলেই জানতে পারলাম যে, আমাকে গুলি করে মারতে চায় এমন লোক দেশে আছে। আমি যদি গাড়িতে ভ্রমণ করে আর হোটেলে বসে দেশ দেখতাম তাহলেতো এগুলো জানতে পারতাম না। ততক্ষনে ভদ্রলোক আরো কিছু বলতে চাইলো আমি বললাম দেখুন আপনি যতক্ষন বলেছেন আমি কিন্তু কিছু বলিনি। আমি আপনাকে আগেই জিজ্ঞেস করেছি আপনার বলার আছে কিনা? এখন আপনি শুনু আমি বলছি।

আমি পায়ে হেঁটে দেশদেখে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার সমস্যা ও সুবিধাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরছি। আমি এক বৃদ্ধ মহিলার আকুতি বয়স্কভাতা ১২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা করার কথা উচ্চ পর্যায়ে জানানোর চেষ্টা করছি। আমি একটি শিশুকে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমি দশ হাজার টাকার বেশী পথে পথে দুস্থ্য মানুষকে দান করেছি। এটা পথে পথে হেঁটে না গেলে আমি করতে পারতাম না। ততক্ষনে রাস্তায় বেশ বড়ো জটলা হয়ে গেছে। পথিক রিক্সাযাত্রী এমনকি মোটর সাইকেল আরোহীরাও দাড়িয়ে আমার কথা শুনছিলো। কারণ আমি তখন রীতিমত ভাষন দিচ্ছিলাম। ওই ভদ্রলোক এবার কিছুটা নরম হয়ে আমার কথার সাথে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো বোঝাতে চাইলে তিনি বুঝতে পেরেছেন আর বলার দরকার নেই।

কিন্তু ততক্ষনে আমাকে কথায় পেয়ে গেছিলো। আমি বলতে থাকলাম। পায়ে হাঁটছি বলে শত শত ছবি তুলছি আমার দেশের বিভিন্ন এলাকার। প্রতিটি এলাকা নিয়ে লেখা লিখছি। শ’ খানেক লেখার মধ্যে হাজারখানেক কথাতো আছেই। সেখান থেকে কেউ যদি একটি কথা শোনে। একটি তথ্য কারো কাজে লাগে। তাহলে আমার হাজার কিলোমিটার পথহাঁটা সফল। আমিতো পুরো দেশ বদলাতে পারবোনা। প্রতিদিন আমি মাঠ ঘাট বাজার স্কুল কলেজ মিলিয়ে হাজারের বেশী লোকের সাথে মিশি তাদেরকে দেশের কথা বলি। এদের মধ্য থেকে দশজন মানুষ যদি আগামীতে দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে তাহলেই আমি সফল। আমার সফর সফল। এই আপনি আমার মতো মানুষকে মানুষকে গুলি করে মারতে চেয়েছেন। আর বলেছেন যারা বিমানে করে ঘুরতে যায় আলীশান হোটেল থাকে তারাই ঠিক আমি ভুল। আপনার মতো কোনো মানুষের যদি ধারণা বদলাতে পারি তাহলে আমার কষ্ট সফল হবে। এখন বলুন আপনি কি এখনো আমাকে খুন করতে চান?

ভদ্রলোক অবনত মস্তকে তার ভুল ধারণার জন্য ক্ষমা চাইলেন। আমি আর কথা না বাড়িয়ে পথচলা শুরু করলাম। তখন একদম পিনপতন নিরবতা। একজন মোটর আরোহী বলল। ভালোই হলো তিনি আপনাকে খুন করার কথা বলার কারণে আমরাও এখানে থামলাম আর নতুন অনেক কিছু জানতে পারলাম ভালোই হলো।
মন্তব্য
Loading...