জ্বালানি তেলের দাম গত ২৬ মাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে

0 105

আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত ২৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়ার উত্তোলন কমানোর অব্যাহত প্রচেষ্টার মধ্যে পণ্যটির দামে উর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। খবর রয়টার্স।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) ভবিষ্যৎ সরকারের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছায় ৬২ ডলার ১৬ সেন্ট বা স্থানীয় মুদ্রায় ৪ হাজার ৯৭২ টাকা ৮০ পয়সা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে), যা আগের দিনের তুলনায় এ দাম ৫৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক নয় শতাংশ বেশি। লেনদেনের শুরুতে এ বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৬২ ডলার ২১ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা ২০১৫ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে লন্ডনের ব্রেন্ট তেলের দাম এদিন ৩৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক নয় শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৬৮ ডলার ২৩ সেন্টে। লেনদেনের শুরুতে পণ্যটির দাম ৬৮ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল। ২০১৫ সালের মে মাসের পর এটিই সর্বোচ্চ।

২০১৪ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম উভয় বাজার ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের বেশিতে লেনদেন শুরু করল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ২০১৮ সালের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বজায় রাখতে সহযোগিতা করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে পণ্যটির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত উত্তোলন কমাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এ কারণে এমনিতেই বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

২০১৪ সালের শেষ সময় থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন শুরু হয়। ক্রমাগত দরপতন ঠেকাতে ওপেকভুক্ত দেশগুলো পণ্যটির সম্মিলিত উত্তোলন কমিয়ে আনতে চুক্তি সই করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী দেশগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন ১৮ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের সমপর্যায়ে আসবে বলেও আশা করা হয়। রাশিয়াসহ ওপেকবহির্ভূত ১০টি দেশ এ চুক্তি মেনে পণ্যটির উত্তোলন কমাতে রাজি হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে এর মেয়াদ আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর ওপেক সভায় আবারও নয় মাসের জন্য অর্থাৎ ২০১৮ সালের শেষ সময় পর্যন্ত উত্তোলন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

মন্তব্য
Loading...