একটু কষ্ট করে লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই

0 67

বর্তমানে চাকরির বাজারে মার্কেটিং বিষয়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। পেশা হিসেবে অনেক তরুণ মার্কেটিংকে বেছে নিচ্ছেন। এস এম আরাফাতুর রহমান আরএফএল প্লাস্টিকসের হেড অব মার্কেটিং হিসেবে কাজ করছেন। কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে

সিটিসেল ও বাংলালিংকে। চাকরির খোঁজের সঙ্গে বাংলাদেশে মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছে

আরাফাতুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য মামুন

প্রশ্ন : আপনার চাকরী শুরুটা কীভাবে হয়েছে?

উত্তর : আমি বিবিএ শেষ করার পরই সিটিসেল এ জয়েন করি। এখানে প্রায় এক বছরের মতো ছিলাম। এরপর যোগদান করি বাংলালিংকে। এ প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ শেষ করি। এরপরও প্রায় তিন বছর এ প্রতিষ্ঠানেই কাজ করি। এবং নিজের নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেয়ার চেষ্টা করি। আমার পড়াশোনা যেহেতু মার্কেটিংয়ে তাই এ চিন্তা থেকেই প্রাণ আরএফএলে যোগদান করি। এ প্রতিষ্ঠানটিতে আমি একেবারে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগদান করি। এর নিজের কাজ দেখি অ্যাসিস্টটেন্ট ব্যান্ড ম্যানেজার, ম্যানেজার এরপর ধাপে ধাপে আজকের অবস্থানে।

প্রশ্ন : আপনার চাকরি নেয়ার ক্ষেত্রে শুরুতে প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞতার চায়নি?

উত্তর : আসলে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান কিন্তু নিয়োগের শুরুতেই কাজের অভিজ্ঞতা চায় না। প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগের সময় কর্মীর ইন্টেলিজেন্সি দেখে। ক্রিয়েটিভিটির পরিমাণ পরিমাপ করে। আমার প্রথম চাকরির পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়নি। ইন্টারভিউ দিয়েছি। সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়েই চাকরিতে যোগদান করেছি।

প্রশ্ন : ছাত্র অবস্থাতেই এ ধরনের চাকরি করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছেন?

উত্তর : না। ছাত্রাবস্থায় চাকরির কোনো প্রস্তুতি নেয়নি। মার্কেটিংয়ের বিষয়ের ওপর আলাদা কোনো কোচিংও করিনি। এখন যেটা অনেকেই করছেন দেখি। করা ভালো। সময় থাকলে একস্ট্রা দক্ষতা অর্জন করা অবশ্যই বুদ্ধিমানের কাজ। এটা পরে বেশ কাজে দেয়। তবে আমার চাকরির বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি না থাকলেও বিভিন্ন স্কিল দক্ষতাভিত্তিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এই যেমন থিয়েটার করছি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। এগুলো আমার পরবর্তীতে কাজে দিয়েছে। মানুষের সঙ্গে চলতে শিখিয়েছে। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

প্রশ্ন : কখনও সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা হয়নি?

উত্তর : শুধু সরকারি বা কর্পোরেট কোনো ধরনের চাকরি করব এ বিষযে কোনো পরিকল্পনা কখনও ছিল না। তবে সব সময় ভালো থাকার ইচ্ছাটাই করেছি। এমনটি আমার পরিবারের সব ভাই ডাক্তার কিন্তু আমার একবারও ডাক্তার হতে ইচ্ছা হয়নি।

প্রশ্ন : ছাত্রাবস্থায় অনেকে ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ থাকতে দেখা যায়। সে সময নিজের প্রতি কনফিডেন্স ধরে রাখছেন?

উত্তর : এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশাটাই বেশি কাজ করে। এ কারণেই দেখা যায় কোনো কিছুই হয়না শেষ পর্যন্ত। কারণ ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ না হয়ে আমি এখন যেটা করছি সেটি ঠিকঠাকভাবে করছি কিনা সে দিকে নজর দেয়া উচিত। সময়ের কাজটি সময়ে করলেই কনফিডেন্স হারানোর কিছু নেই। মোট কথা যখন যে কাজটি করি সেটি মন থেকেই করতে হবে। এখানে কোন ফাঁকিবাজি করা যাবে না। এতে ফাঁকিবাজি করা মানে নিজেকেই ফাঁকি দেয়া। মোট কথা সময়ের কাজটি ওই সময়ের মধ্যে ভালোভাবে করলেই ক্যারিয়ার আপনা আপনিই গড়ে উঠবে।

প্রশ্ন : আপনি চাকরি ছাড়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। এক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র যাওয়াটা ক্যারিয়ার জন্য কতটা সাফল্য নিয়ে আসে?

উত্তর : আমি যেহেতু মার্কেটিংয়ের তাই মার্কেটিংয়ের বিষয়টিই বলি। চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরি খুব একটা সাফল্য নিয়ে আসে না। এ সেক্টরে সাফল্য নিয়ে আসে পারফর্মান্স। কাজে পারফর্ম ভালো থাকলে সাফল্য আসবেই। ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট একটা কথা বলেছেন এ কথাটি সবসময় মনে রাখি আমি। সেটি হচ্ছে ‘আপনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সে প্রতিষ্ঠান নয়, যে কাজটি করছেন সে কাজটিকে ভালোবাসুন।’ আমিও বলি ভালোবেসে নিজের কাজটি করলে সাফল্য আসবেই।

প্রশ্ন : আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে হয় ?

উত্তর : প্রথমে পত্রপত্রিকা বা বিভিন্ন মাধ্যমে সার্কুলার দেয়া হয়। সে সার্কুলার অনুযায়ী পরীক্ষা নেয়া হয়। সে পরীক্ষা থেকে যারা বাচাই হয় তারাই নিয়োগ পান।

প্রশ্ন : কোন কোন সেক্টরে আরএফএল লোক নিয়োগ করে ?

উত্তর : আমাদের প্রতিষ্ঠানের যে বিভাগে কাজের জায়গা রয়েছে তার সবগুলো বিভাগেই লোক নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মার্কেটিং, সাপ্লাইয়ার, অপারেশন, ডিজাইন, ম্যানেজিং পোস্ট। মোট কথা আমাদের সবগুলো বিভাগেই লোক নিয়োগ দেয়া হয়। যখন যে পদে লোক নেয়া হয় সে পদের জন্য সার্কুলারের মাধ্যমেই নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রশ্ন : যাদের নিয়োগ দেয়া হয় তাদের যোগ্যতা ?

উত্তর : যখন যে পদে লোক নেয়া হয় তখন সে পদ অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে। এছাড়াও যে বিভাগে কাজ করতে চায় সে বিভাগটি নিয়ে তার দক্ষতা বা জ্ঞানের পরিধি কেমন সেটিও দেখা যায়। মার্কেটিংয়ে ক্ষেত্রে বিবিএ এমবিএ চাওয়া হয়। এর বাইরে বিশেষ কোনো যোগ্যতা দেখা হয় না। আমাদের এখানে কিন্তু প্রেশার লোকই বেশি নেয়া হয়। পরে দক্ষতা দেখিয়ে তারা প্রমোশন পান।

প্রশ্ন : চাকরির পদোন্নতির কি ভাবে হয়?

উত্তর : পদোন্নতির বিষয়টি পুরোপুরি কর্মীর পার্সোনাল পারফর্মের ওপর নির্ভর করে। তারা কেমন পারফর্ম করে। তার ওপর ভিত্তি করেই পদোন্নতিটা হয়।

প্রশ্ন : প্রতিবছর কত লোক নিয়োগ করা হয়?

উত্তর : আরএফএলে প্রতি বছরই লোক নিয়োগ দেয়া হয়। দেখা যায় বছরে নতুন করে পাঁচ থেকে সাত হাজার লোক নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রশ্ন : বেতন কাঠামো?

উত্তর : বেতন কাঠামোটা নির্ভর করে পজিশনের ওপর। তবে প্রত্যেকটি পদের জন্যই আরএফএল বাংলাদেশের জীবন মান বিচারে স্ট্যান্ডার্ড বেতন স্কেল মেনটেন্ট করে। খুব একটা কমও না আবার অতি উচ্চ বেতনও না।

প্রশ্ন : যারা এই সেক্টরে কাজ করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ?

উত্তর : তেমন কোনো পরামর্শ নেই। শুধু বলবা বাংলাদেশের মার্কেটিংয়ে চাকরির যথেষ্ঠ জায়গা রয়েছে। কিন্তু মার্কেটিং একটি চ্যালেঞ্জিং জব। যারা চ্যালেঞ্জ নিতে চায়না তাদের জন্য এ চাকরির না। এ সেক্টরে চাকরি করতে চাইল অবশ্যই আপনাকে স্মার্ট হতে হবে। কমিউনিকেশন স্কিল একশো তে একশোই থাকতে হবে। এ জন্য ছাত্রাবস্থাতেই কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে ভালো হয়। আর এখন তো এ ধরনের অনেক কোর্সও রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সেগুলোও করতে পারেন।

মন্তব্য
Loading...